শনিবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত 'ওড়িশা ইনভেস্টরস মিট ও রোডশো'-এর মাধ্যমে ওড়িশা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব ও প্রতিশ্রুতি আকর্ষণ করেছে, যার মাধ্যমে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এটি রাজ্যের বৈচিত্র্যময় এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত শিল্প-বাস্তুতন্ত্রের প্রতি শিল্পমহলের ক্রমবর্ধমান আস্থারই প্রতিফলন।
শুক্রবার এই সম্মেলনের প্রথম দিনে ১৩০টি বিশেষ উচ্চ-পর্যায়ের মতবিনিময় সভা এবং চারটি ক্ষেত্র-ভিত্তিক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকগুলোতে হোসিয়ারি, পোশাকের আনুষাঙ্গিক ও কারিগরি বস্ত্র; ধাতু-ভিত্তিক সহায়ক শিল্প, ডাউনস্ট্রিম ও প্রকৌশল সামগ্রী; প্লাস্টিক, রসায়ন, প্যাকেজিং ও পুনর্ব্যবহার শিল্প; এবং ঔষধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও জৈব-প্রযুক্তি—এই চারটি ক্ষেত্রকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে ৮০টিরও বেশি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির 'সি-এক্স-ও' (CXO) পর্যায়ের কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
এই আলোচনা ও মতবিনিময়ের ফলে ২৭টি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে ৮১,৮৬৪ কোটি টাকার বিনিয়োগ সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এবং ৬৩,১৬১টিরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া, ১৮,৪৫৩ কোটি টাকার ১৯টি বিনিয়োগ প্রস্তাব বা 'বিনিয়োগের অভিপ্রায়' (Investment Intent) পাওয়া গেছে, যার মাধ্যমে আরও ২৭,৫৯১টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৫০০-এরও বেশি শিল্পনেতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অংশীজনের অংশগ্রহণে আয়োজিত এক বিশাল রোডশোতে ভাষণ দিতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ২০৩৬ সালের মধ্যে ‘সমৃদ্ধ ওড়িশা’ গড়ার লক্ষ্যে তাঁর রূপরেখা তুলে ধরেন; এ সময় তিনি নবায়নযোগ্য শক্তির সরঞ্জাম, বস্ত্রশিল্প, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, তথ্যপ্রযুক্তি (IT), ডেটা সেন্টার এবং উন্নত উৎপাদন খাতের বিদ্যমান সুযোগগুলোর ওপর বিশেষ আলোকপাত করেন।


